পূজা-পার্বণের ধারণা (পাঠ ২)

দেব-দেবী ও পূজা-পার্বণ - হিন্দুধর্ম শিক্ষা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

382

পূজা
সাধারণ অর্থে পূজা বলতে প্রশংসা করা বা শ্রদ্ধা নিবেদন করাকে বোঝায়। কিন্তু হিন্দুধর্মে পূজা সাকার উপাসনার পদ্ধতি। এক্ষেত্রে দেব-দেবীর প্রশংসা বা শ্রদ্ধা করার জন্য তাঁদের সেবা, স্তুতি ও গুণকীর্তন করে প্রণাম করা হয়। নিবেদন করা হয় পুষ্প-পত্র, ধূপ-দীপ, জল, ফল ইত্যাদি নৈবেদ্য। জীবের মঙ্গলের জন্য প্রার্থনা করা হয়। একত্রে এ বিষয়গুলোকে পূজা বলে।
পূজার আচরণগত দিক বলতে পূজা করার রীতি-নীতিকে বোঝানো হয়। অর্থাৎ পূজা কীভাবে করতে হবে, কীভাবে প্রতিমা নির্মাণ করতে হবে, কীভাবে ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করতে হবে, কী কী উপাচারের প্রয়োজন হবে ইত্যাদি বিষয় পূজার আচরণগত দিকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। দেশ ও অঞ্চল ভেদে পূজা পদ্ধতির ভিন্নতা রয়েছে। তবে পূজা করার মৌলিক দিকগুলোর মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।

আবাহন, অর্থ প্রদান, ধ্যান, পূজামন্ত্র, পুষ্পাঞ্জলি, প্রার্থনা মন্ত্র, প্রণাম মন্ত্র ইত্যাদি পূজার বিভিন্ন অঙ্গ। আমরা প্রতিদিন পূজা করি। আবার প্রতি সপ্তাহ, প্রতি মাস বা বছরের বিশেষ বিশেষ সময়েও বিভিন্ন দেব- দেবীর পূজার আয়োজন করে থাকি। দেব- দেবী অনুসারে পূজা পদ্ধতি ও মন্ত্র ভিন্ন ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে যে-কোনো দেব-দেবীর পূজা করার ক্ষেত্রে কতগুলো সাধারণ নিয়ম-নীতি অনুসরণ করতে হয়। এই নিয়ম-নীতিগুলোকে সাধারণভাবে পূজাবিধি বলে।

পার্বণ
পার্বণ শব্দের অর্থ হলো পর্ব বা উৎসব। উৎসব মানে আনন্দময় অনুষ্ঠান। পার্বণ বলতে আমরা বুঝি, যেসব পর্ব পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে। যেমন- প্রতিমা নির্মাণ, দেবতার ঘর সাজানো, বিভিন্ন ধরনের বাদ্যের আয়োজন, বিশেষ করে ঢাক, ঢোল, ঘণ্টা, করতাল,
কাঁসি, শঙ্খ ইত্যাদি; ভক্তদের সাথে ভাব বিনিময়, কিছুটা বিচিত্রধর্মী খাওয়া-দাওয়া, বিভিন্ন ধরনের আনন্দমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন, পরিচ্ছন্ন পোশাক-পরিচ্ছদ পরিধান ইত্যাদি।

একক কাজ : পূজা অনুষ্ঠানকে আনন্দময় করে তোলে এমন পাঁচটি আয়োজন সম্পর্কে লেখ।

নতুন শব্দ: নৈবেদ্য, উপাচার, অর্থ, পুষ্পাঞ্জলি, পার্বণ।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...